পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্যসাথী যোজনা 2020 | West Bengal Swasthya Sathi Scheme in Bengali

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্যসাথী যোজনা 2020 (West Bengal Swasthya Sathi Scheme in Bengali) (Health Insurance Scheme)

ভূমিকা – পশ্চিমবঙ্গে বেসরকারি নার্সিংহোমের কোনও অভাব নেই. কিন্তু সেখানে চিকিৎসার খরচ গরীব মানুষের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়, তাই তাদের সরকারি হাসপাতালের উপর ভরসা করতে হয়. কিন্তু সরকারি হাসপাতালেও সমস্ত ধরণের চিকিৎসা বিনামূল্যে করা সম্ভবপর হয় না. একেবারে দরিদ্র পরিবারের মানুষরা চিকিৎসীর ব্যয়ভার বহন করতে অক্ষম. সে কারণেই পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসরকার দরিদ্র মানুষদের জন্য নতুন স্বাস্থ্যবীমা চালু করেছেন. এই বীমার উপভোক্তারা রাজ্যের নির্দিষ্ট বেশকয়েকটি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা করাতে পারেবন.

Swasthya Sathi Scheme in West Bengal health insurance

স্বাস্থ্যসাথী যোজনা ঘোষণা করা হয় ক্যাবিনেট নম্বর 2656য়ে 17 ফেব্রুয়ারী 2016 এবং অর্থমন্ত্রকের নোটিফিকেশন নম্বর 1104-এফ পি)25 ফেব্রুয়ারী 2016.

রাজ্যসরকারের গঠিত একটি কমিটি যার নাম স্বাস্থ্যসাথী সমিতি রেজিস্ট্রেশন নম্বর এস/এম/4377 2016-17 তারিখ 15.11.2016. যারাএইযোজনারপর্যালোচনাকরেথাকেন.

স্বাস্থ্য প্রকল্পের নামস্বাস্থ্য সাথী যোজনা
চালু হয়েছেপশ্চিমবঙ্গে
চালু করেছেনমমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রকল্প চালু হওয়ার তারিখডিসেম্বর 2016
পরিকল্পিত উপভোক্তাআর্থিক দরিদ্র
পরিচালিতপশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দফতর
সরকারি ওয়েবসাইটhttps://swasthyasathi.gov.in
হেল্পলাইন নম্বর1800-345-5384

স্বাস্থ্যসাথী যোজনার বিষয়ক তথ্য

  1. এই যোজনার অন্তর্গত প্রতিটি পরিবার বছরে 5 লক্ষ টাকার স্বাস্থবীমার সুবিধা পাবেন.
  2. 5 লক্ষ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাবে বীমার অধীনে ও 1.5 লক্ষ থেকে 5 লক্ষ টাকা পাবেন প্রতিশ্রুতি খাতে.
  3. 02.2017 তারিখ থেকে কার্যকর এই প্রকল্পটিতে রাজ্যের নয়টি জেলার বীমার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স কোম্পানিকে ও 28.02.2018 তারিখ থেকে রাজ্যের 11টি জেলার বীমার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইউনাইটেড ইন্ডিয়া ইনস্যুরেন্স কোম্পানিকে. 2018 সালের মার্চ মাস থেকে এই যোজনাটিকে প্রতিশ্রুতি খাতে প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে.
  4. 04.2018 থেকে 15.01.2020 তারিখ পর্যন্ত বাজাজ আলিয়ান্সকে রাজ্যের 18টি জেলার বীমার দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং 01.04.2018 থেকে 31.12.2019 তারিখপর্যন্তইফকোটোকিওনামেরসংস্থাকেরাজ্যেরবাকী 5টি জেলারবীমারদায়িত্বদেওয়াহয়. যদিওপরে 5টি জেলারবীমাযোজনাসুবিধা 15.01.2020 তারিখপর্যন্তবাড়ানোহয়.
  5. এই প্রকল্পটি 16.01.2020 তারিখ থেকে নতুন ইন্সুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়. ন্যাশনাল ইন্সুরেন্স কোম্পানি 6টি জেলায়, ওরিয়েন্ট ইন্সুরেন্স কোম্পানি 9টি জেলায় ও ইউনাইটেডইন্সুরেন্কোম্পানিবাকী 8টি জেলায়বর্তমানেবীমারদায়িত্বনিয়েছে.

স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের গুণাবলী

  • এই প্রকল্পের সবচেয়ে ভাল দিক হল এটি পেপারলেস একটি প্রক্রিয়া. এতে নগদ অর্থের কোনও লেনদেন নেই এবং স্মার্টকার্ডের মাধ্যমে এটির সুবিধা নেওয়া যাবে.
  • এই প্রকল্পের আওতায় সমস্ত রোগের চিকিৎসার সুবিধা মিলবে.
  • এই প্রকল্পে পরিবারের সদ্য সংখ্যার কোনও বাধ্যাবাধকতা নেই এবং নিজের বাবা মায়ের সঙ্গে উপভোক্তার শ্বশুর শাশুড়িও এই প্রকল্পের আওতায়চিকিৎসার সুযোগ পাবেন. পরিবারে যদি কোনও প্রতিবন্ধী সদস্য থাকেন তবে তিনিও এই প্রকল্পের আওতায় চিকিৎার সুবিধা পাবেন.
  • এই প্রকল্পের যাবতীয় প্রিমিয়াম রাজ্য সরকারই বহন করবে উপভোক্তাদের এই প্রকল্পের জন্য কোনও অর্থ প্রদান করতে হবে না.
  • যেদিন উপভোক্তারা এই প্রকল্পে নিজের নাম নথিভুক্ত করবেন সেদিনই তারা অনলাইনে স্বাস্থ্যসাথীর স্মার্টকার্ড পেয়ে যাবেন. স্মার্ট কার্ডে উপভোক্তার পরিবারের সমস্ত সদস্যদের যাবতীয় তথ্য অর্থাৎ তাদের ছবি, বায়োমেট্রিক, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, এসইসিসি আইটি দেওয়া থাকবেন.
  • প্রকল্প চালু হওয়ার প্রথম দিন থেকে এই যোজনার যাবতীয় কাজকর্ম অনলাইনের মাধ্যমেই হবে যাতে কাগজের ব্যবহার না হয়.
  • উপলভ্যপরিষেবাএবংপরিকাঠামোরউপরভিত্তিকরেহাসপাতালেরঅনলাইনেনথিভুক্তিকরণ ও গ্রেডেশনকরাহয়েছে.
  • অনলাইনেরমাধ্যমে 100 শতাংশঅগ্রিমঅনুমোদনপাওয়াযাবেএবং 24 ঘন্টারমাধ্যমেএইপ্রকল্পটিকার্যকরীহবে.
  • কোনোওকারণেস্বাস্থ্যসাথীরস্মার্টকার্ডটিব্লকহয়েগেলেসঙ্গেসঙ্গেউপভোক্তারনথিভুক্তমোবাইলনম্বরেম্যাসেজচলেযাবেএবংউপভোক্তাসজাগকরাহবে.
  • হাসপাতালথেকেছাড়াপাওয়ারসঙ্গেসঙ্গেউপভোক্তারস্বাস্থ্যসংক্রান্তযাবতীয়তথ্যঅনলাইনেআপলোডহয়েযায়.
  • হাসপাতালেবিলেরপরিমাণটাকাফেরতপাওয়ারজন্যক্লেমকরার 30- দিনেকমধ্যেটাকাফেরতপাওয়াযাবেএবংটাকাপেতেবিলম্বহলেটাকাপরিমাণেরঅতিরিক্তসুদপাওয়াযাবে.
  • রাজ্যসরকারেরকলসেন্টারেরটোলফ্রিনম্বর18003455384য়ে সারাদিনফোনকরাযাবেএবংনিজেরমতামতজানানোযাবে.
  • অনলাইনের মাধ্যমে উপভোক্তারা অভিযোগ জানাতে পারবেন এবং এটির পর্যবেক্ষণ করা হবে.
  • কোনও রকম জালিয়াতি হলে রাজ্যসরকার তাতে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং অনলাইনের মাধ্যমে তা উপভোক্তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়.
  • স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের নিজস্ব অন্ড্রোয়েড মোবাইল অ্যাপ রয়েছে যার সাহায্যে উপভোক্তারা প্রকল্প সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য জানতে পারবেন.

স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় নথি

  1. বাড়ির ঠিকানা – প্রতিটি উপভোক্তাকে নাম নথিভুক্ত করার জন্য তার ঠিকানা সংক্রান্ত নথি দেখাতে হবে.
  2. বিপিএল সার্টিফিকেট – প্রতিটি উপভোক্তার বিপিএল সার্টিফিকেট থাকা বাধ্যতামূলক.
  3. মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন ও এসএইচিজি রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট – এসএইচজি ও মেডিকেল অর্গানাইজেশনের সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক
  4. সিভিক ভলেন্টিয়ার সার্টিফিকেট – প্রতিটি উপভোক্তাকে রাজ্যসরকারের দ্বারাজারি করা নির্দিষ্ট কোনও নথি জমা দিতে হবে.

কিভাবে রেজিস্ট্রেশন ফর্ম পাবেন ও নাম নথিভু্ক্ত করবেন –

  1. অফলাইন অ্যাপ্লিকেশন – অবেদনকারীরা বীমা সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য রাজ্যসরকারের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট https://swasthyasathi.gov.in/থেকে পাবেন. কিন্তু নামনথিভুক্তিকরণ অফলাইনে করতে পারেন.
  2. শহরের সরকারি হাসপাতাল – কোনও আবেদনকারী যদি শহরের বাস করে থাকেন তবে তাকে তার বাসস্থানের নিকটবর্তী সরকারি হাসপাতালে গিয়ে আবেদন করতে হবে.
  3. গ্রামের স্বাস্থ্য সেন্টার – গ্রামের বাসিন্দারা তার এলাকার নিকটবর্তী সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে আবেদন করতে পারবেন.
  4. নাম নথিভুক্তকরণের পদ্ধতি – রেজিস্ট্রেশনের জন্য এজেন্টদের নিয়োগ করা হয়েছে যারা আবেদনকারীদের ফর্ম ফিলআপ করতে সাহায্য করবেন.
  5. নথি যাচাইকর্ম – বীমা প্রকল্পে বর্ণিত সমস্ত ডকুমেন্টের ফটোকপি আবেদনকারীকে জমা দিতে হবে. নাম নথিভুক্তিকরণ এজেন্টরা যাবতীয় নথি যাচাই করবেন.
  6. অনলাইন আবেদন করে ফর্ম ফিল-আপ – নাম নথিভুক্তিকরণ এজেন্ট তার কম্পিউটার ব্যবহার করে আবেদনকারীর হয়ে অনলাইনে ফর্ম ফিল আপ করতে পারবেন.
  7. রেজিস্ট্রেশন আইডি তৈরি – যখনই আবেদনকারী আনলাইনে তার নাম নথিভুক্ত করবেন সঙ্গে সঙ্গে ওযেবসাইটে আবেদনকারীর জন্য নির্দিষ্ট আইডি ও পাসওয়ার্ড জেনারেট হবে.
  8. ওয়েবসাইটে অফিশিয়াল লগইন – আবেদনকারীরা অফিশিয়ালি নিজের আইডি ও পাসওয়ার্ডের সাহায্যে প্রকল্পের ওয়েবসাইটে লগইন করতে পারবেন.
  9. স্মার্ট কার্ড ইন্স্যুরেন্স – স্বাস্থ্যসাথীর স্মার্টকার্ড সরকারি ওয়েবসাইট থেকে জেনারেট করা হবে. ওয়েবসাইটে লগইন করার পর আবেদনকারীরাডিজিটাল কার্ড অর্জন করতে পারবেন.

Other links –

About Editor